LearnArticle
EN লেখক লগইন লেখক হোন
          অনলাইন প্রকাশক
www.learnarticle.com
    সার্বিক সহযোগিতায়

ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হোন । ছাগল পালন পদ্ধতি

আজ আপনাদেরকে ছাগল পালন সম্পর্কে বিস্তারিত যেমন-ছাগল কেন পোষবেন, কিভাবে ছাগলের জাত সংগ্রহ করবেন, কিভাবে বাসস্তান তৈরি করবেন, ছাগলের খাবার, রোগজীবাণু হলে কি করবেন, কিভাবে বাজারজাত করবেন এবং সর্বোপরি ছাগল পালন করে কিভাবে লাভবান হবেন তার একটা ধারনা দেয়ার চেষ্টা করব। আশা করি আমার এই লিখা থেকে ছাগল পালন সম্পর্কে একটা ভাল ধারনা পাবেন। আর কথা না বারিয়ে চলুন জেনে নেই ছাগল পালন করে কিভাবে লাভবান হবেন।

কেন ছাগল পালন করবেন: ছাগল পালন করার কিছু যুক্তিসংগত কারন এখানে উল্লেখ করা হল।
১. অল্প পুজিতে অধিক মুনাফা।
২. ছাগল দ্রুত বর্ধনশীল (দৈনিক প্রায় ২০-৪০ গ্রাম)।
৩. তুলনামূলকভাবে রোগজীবাণু কম হয়।
৪. একের অধিক বাচ্চা দেয়।
৫. বছরে দুই বার বাচ্চা দেয়।
৬. ছাগলের খাবার কম লাগে।
৭. ছাগল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
৮. ছাগল পালন করে অনেক ভাবে লাভবান হওয়া যায় যেমন- দুধ, বাচ্চা, মাংস ইত্যাদি।
৯. ছাগলের মাংস ও দুধের ব্যাপক চাহিদা এবং ভাল দাম।

ছাগলের জাত সংগ্রহ: ভাল জাতের ছাগলের জাত সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশের শরিয়তপুর, চাদপুরের চরাঞ্চল থেকে ভাল জাতের ছাগল সংগ্রহ করতে পারেন।

তাছারা প্রতিষ্ঠিত ছাগলের খামার থেকে উন্নত জাতের ছাগল সংগ্রহ করতে পারেন। তবে ছাগল সংগ্রহের সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। যেমন- ছাগলের উপরের নিচের অংশ যাতে সমান হয়, রুগ্ন এবং অপুষ্টিকর ছাগল কিনবেন না।

ছাগির ক্ষেত্রে ওলান যাতে তাজা থাকে। সর্বোপরি উপজেলা পশু অধিদপ্তর থেকে একজন-কে সাথে নিয়ে গেলে ভাল হয়। তাহলে ঠকার ভয় থাকে না। প্রতি দশটি ছাগলের জন্য কমপক্ষে একটি পাঠা প্রয়োজন।


বাসস্থান তৈরি: ছাগলের বাসস্থান তৈরির জন্যে অপেক্ষাকৃত উচু জায়গা নির্বাচন করতে হবে। ঘড় তৈরির সময় লক্ষ্য রাখবেন ঘড়টি যাতে লম্বালম্বিভাবে হয়। ঘড়ে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঘড়ে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ঘড় তৈরির সময় খাবার এবং ছাগলের মল মূত্রের জন্যে নির্দিষ্ট জায়গা রাখতে হবে। বিভিন্ন বয়সে ছাগলকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রাখতে হবে। সেই জন্যে ঘড় তৈরির সময় ঘড়কে তিন ভাগ করতে হবে। ছাগলের বাচ্ছাকে জন্মের পর এক সপ্তাহ মায়ের সাথে আলাদা ঘড়ের এক অংশে রাখবেন।

তাছাড়া ছাগলের যখন বাচ্ছা জন্মানোর সময় হবে তখন ঘড়ের এক অংশে রেখে আলাদা পরিচর্চা করতে হবে। বাকি অংশে একটা নির্দিষ্ট সময় পর সব ছাগলকে একসাথে রাখতে হবে। আর সবসময় লক্ষ্য রাখবেন ছাগলের বাসস্থানটি যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।

ছাগলের খাবার: খাবার সবার মত ছাগলের ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বপূর্ন। ছাগলকে দানাদার এবং আশযুক্ত এই দুই ধরনের খাবার দিতে হবে।

দানাদার খাবার হিসেবে গমের ভূষি, চালের কুড়া, ভোট্রা, খৈল ইত্যাদি এবং আশযুক্ত খাবার হিসেবে গাছের পাতা ও সবুজ গাস যেমন-নেপিয়ার, আলফালফা, বারসীম, ইপিলইপিল ইত্যাদি দিতে পারেন। নির্দিষ্ট পরিমানে কমপক্ষে দিনে দুই বার দানাদার এবং আশযুক্ত খাবার দিতে হবে।
দানাদার খাবার:
১. গমের ভূষি-৪৫ ভাগ
২. চালের কুড়া-২০ ভাগ
৩. খেসারী ভাঙ্গা-১৮ ভাগ
৪. তিলের খৈল-১৬ ভাগ
৫. লবন-০.৯ ভাগ এবং
৬. এমভাবিট-০.১ ভাগ

প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলকে দিনে ১৬০ (সকালে-৮০ গ্রাম ও বিকালে-৮০ গ্রাম) গ্রাম এবং ছাগলের বাচ্ছাকে ১০০ (সকালে-৫০ গ্রাম ও বিকালে-৫০ গ্রাম) গ্রাম দানাদার খাবার দিতে হবে।

খাবারের সময় যাতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাচ্ছাকে জন্মের এক থেকে দুই সপ্তাহ পর থেকে দানাদার এবং আশযুক্ত খাবার খাওয়ানোর অব্ভাস করুন।


রোগজীবাণু: ছাগলের অনেক ধরনের রুগ হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পিপিআর, গোট পক্স, একথাইমা, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। এই সব রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকতে হলে ছাগলকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ছাগলের খাবারে যাতে রোগজীবাণু না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাছাড়া যে সকল রোগের টিকা পাওয়া যায় সে সকল টিকা দিতে হবে। যদি কোন ছাগল রোগাক্রান্ত হয় তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

আর যদি কোন ছাগল রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাদেরকে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। ছাগলকে ক্রিমি থেকে মুক্ত রাখতে হলে নিয়মিত ক্রিমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে।

বাজারজাত: ছাগলের মাংস অনেক দামি। যদি আপনি মাংস উৎপাদনের জন্য ছাগলকে মোটাতাজা করেন তাহলে কোরবানির ঈদের সময় ভাল দাম পাবেন। তাছারা সারা বছর মাংশ বিক্রি করতে পারেন। ছাগলের বাচ্চাও ভাল দামে বিক্রি করা যায়।

স্থানীয় পায়কারদের কাছে ছাগল বিক্রি করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে দাম কম পাওয়া যায়। ভাল জাতের ছাগলের দুধও বিক্রি করা যায়। ছাগলের দুধ অনেক উপকারি। যদি ছাগলের মাংস নিজে বিক্রি করেন তাহলে চামড়া থেকেও আয় হয়।

লাভ ক্ষতির সম্ভাব্য হিসাব: দশটি ছাগলের বাৎসরিক লাভক্ষতির সম্ভাব্য হিসাব নিচে তুলে ধরা হল।
সম্ভাব্য ব্যয় (এককালীন)
১. দশটি ছাগল ক্রয় মূল্য- ৩০,০০০ টাকা। (প্রতিটি ছাগলের মূল্য ৩,০০০ টাকা)
২. ছাগলের বাসস্থান খরচ- ১৫,০০০ টাকা।
মোট এককালীন খরচ ৪৫,০০০ টাকা।

সম্ভাব্য ব্যয় (নিয়মিত)
৩. ছাগলের খাবার বাবদ খরচ- ২৫,০০০ টাকা।
৪. ছাগলের চিকিৎসা বাবদ খরচ- ৫,০০০ টাকা।
৫. রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ খরচ- ২,০০০ টাকা।
নিয়মিত বাৎসরিক খরচ ৩২,০০০ টাকা।

সম্ভাব্য আয়
১. ছাগলের বাচ্চা বিক্রয়-১,২০,০০০ টাকা।(প্রতিটি ছাগল ৪,০০০ টাকা করে ৩০টি)
২. এক বছর পর ১০ টি মা ছাগলের মূল্য (৮,০০০*১০)=৮০,০০০ টাকা
মোট ২,০০,০০০ টাকা।

মোট লাভ (২,০০,০০০-৮৭,০০০)=১,১৩,০০০ টাকা।
তাছাড়া এক বছর পর খামারের আয়তন চার গুন বৃদ্ধি পায়। ছাগলের বাসস্থান প্রতি বছর তৈরি করতে হয় না। এভাবে অল্প পুঁজিতে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।


আরো পিডিএফ ই-বুক ফ্রি ডাউনলোড অথবা প্রিন্ট করুন

এক অনন্য নাম হেলেন কেলার

ভুনা খিচুড়ি তৈরির সহজ পদ্ধতি

কনকনে শীত থেকে বাচার উপায় ও শীত কাল সংক্রান্ত পরামর্শ

কম পুঁজিতে লাভজনক ক্ষুদ্র ব্যবসার কিছু উপকারী আইডিয়া

পরিবারের সংজ্ঞা কি | একটি সুখী পরিবার কেমন হওয়া চায়

কুমিল্লা জেলার উপজেলা, দর্শনীয় স্থান ও কুমিল্লা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য

সিলেট বিভাগের সব জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানসমূহ

আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান । পড়াশোনায় বিজ্ঞানের অবদান

© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com