বাঙ্গালীর সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সামাজিক উৎসব সমূহ

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (২৮ মার্চ ২০১৭)

বাঙ্গালীর সংস্কৃতিতে সামাজিক উৎসবসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঙ্গালিরা উৎসব প্রিয়। বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন করে থাকে। যেমন বাংলা নববর্ষ, পৌষ মেলা, নবান্ন উৎসব ইত্যাদি। এসব উৎসবে বাঙ্গালিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। সামাজিক উৎসবগুলোতে বাঙ্গালিরা বিভিন্নভাবে আনন্দ করে থাকে। এই সময় বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাওয়া, নতুন নতুন কাপড় পরা, বিশেষ বিশেষ খাবার রান্না করা ইত্যাদি।

বাঙ্গালীর সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সামাজিক উৎসব সমূহ

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

সংস্কৃতি কাকে বলে? সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত আমাদের জীবনের সব কিছুকে মনে করি। সংস্কৃতির উপাদান সমূহ হল- আমাদের জীবন যাপনের ধরন, পোশাক, খাদ্য, উৎসব, অনুষ্টান, ভাষা, বাড়িঘর, অলংকার, যানবাহন, গানবাজনা, শিল্প- সাহিত্য, তৈজসপত্র, বিশ্বাস ইত্যাদি।

বাঙ্গালির জীবন নানা আচার- অনুষ্টানে ভরপুর। যেমন মুখে ভাত,আকীকা, গায়ে হলুদ, জন্মদিন , মুসলমানি, পানচিনি, হাতেখড়ি, গহপ্রবেশ, হালখাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাঙ্গালির সংস্কৃতিতে সামাজিক উৎসবসমূহ অনেকটা অংশ জুড়ে আছে। সামাজিক উৎসবগুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবন যাত্রার সাথে মিশে আছে।

সামাজিক উৎসবসমূহ

পহেলা বৈশাখ: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। এটি বাঙ্গালিদের প্রধান সামাজিক উৎসব। চৈত্র মাসকে বিদায় জানিয়ে সবাই নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করে। আর মনে মনে প্রার্থনা করে পুরনো বছর যেভাবে কাটুক না কেন নতুন বছরের নতুন দিনগুলি যেন সবার জীবনে শান্তি ও সুখের বার্তা নিয়ে আসে।

এই দিনটি সবাই খুব জাঁকজমকভাবে উদযাপন করে। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন গান- বাজনা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়।

বৈশাখী মেলা বাঙ্গালি সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। হাজার বছরের এই সংস্কৃতি খুব ঝমকাল পালন করা হয়। রমনা বটমূলে নববর্ষের বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয় এবং ক্রমেই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শহর এলাকায় এ অনুষ্টানে খেলা, সংগীত, কবিতা, ছবি, নাটক প্রভূতি অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামেও নববর্ষ উপলক্ষে এক বা একাধিক দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলায় মাটির খেলনা, হাঁড়ি, পুতুল, বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, কাঠের তৈরি ইত্যাদি পাওয়া যায়। এসব মেলা ছোটদের জন্য খুবই মজার।

পহেলা বৈশাখে ব্যবসায়ীরা নতুন খাতায় নতুন বছরের হিসাব লিখতে শুরু করে। সেই উপলক্ষে ক্রেতা এবং ভোক্তাদের কাছ থেকে বাকি টাকা তুলা হয় এবং মিষ্টিমুখ করানো হয়। একে হালখাতা বলা হয়।

নবান্ন: নবান্ন গ্রাম বাংলার একটি গ্রামীণ বা ঘরোয়া উৎসব। কৃষকরা বাংলা অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটা উপলক্ষে সামাজিকভাবে এই উৎসব করে থাকে। এ সময় কৃষকরা নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে মেতে ওঠেন।

ঘরে ঘরে নতুন চাল দিয়ে নানা রকম পিঠা ও বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। এছাড়া আয়োজন করা হয় নানা নাচ- গানের অনুষ্ঠানের। আমাদের দেশে গ্রামীণ জীবনের সাথে এসব গ্রামীণ উৎসবগুলো যেন একই সাথে মিশে আছে।

পৌষমেলা: গ্রাম বাংলার আরও একটি সামাজিক উৎসব। পৌষ মাসে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। গ্রামের ঘরে বানানো হয় নানা রকম শীতের পিঠা ও মিষ্টান্ন। কয়েকদিন ধরে চলে পিঠা বানানোর উৎসব ও আয়োজন করা হয় মেলার।

মেলায় নানা রকম পিঠা ও খাবার পাওয়া যায়। পাশাপাশি বসে গান, নাচ, যাত্রা ইত্যাদির আসর। কিন্তু দিন দিন আমাদের সংস্কৃতির পরিবর্তন হেতু আমাদের এই পুরাতন ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের প্রয়োজন পুরাতন ঐতিহ্য হিসেবে সামাজিক উৎসব সমূহ পালন করার চেষ্টা করা এবং এগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

মন্তব্য(০)
উত্তর(০)

মন্তব্য ও উত্তর লিখতে অনুগ্রহ করে লগইন করুন!!


আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com