LearnArticle
ENGLISH শর্ত ও নিরাপত্তা লেখক লগইন লেখক হোন

জেনে নিন কেনাকাটার বিচিত্র সব উপায়

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (২০ মার্চ ২০১৭)

কেনাকাটা বর্তমানে একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। একসময় মানুষ প্রয়োজনে কেনাকাটা করত। বছরে দুই একবার কিংবা বড় বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোতে কেনাকাটা করত। কিন্তু বর্তমানে কেনাকাটা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। অবশ্য এর পিছনে কিছু কারন লক্ষণীয়। যেমন আগের দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল ছিল না। সবাই কয়েক মাইল পথ পায়ে হেঁটে কেনাকাটা করতে যেত। যার ফলে ইচ্ছা থাকলে ও কষ্টের জন্য কেনাকাটা করা হত না।

জেনে নিন কেনাকাটার বিচিত্র সব উপায়

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

আর বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। মানুষ তার প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় যেকোনো মুহূর্তে যেতে পারে। তাছাড়া অর্থ সংক্রান্ত বিষয়টি চিন্তা করলে দেখা যায় মানুষ একটা কাজ নিয়ে বসে নেই। চাকুরী করার পর ও কেউ টিউশনি করছে, কেউ ছোটখাট ব্যবসা করছে।
তাই কেনাকাটা করার জন্য টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করা লাগে না।

এছাড়া বর্তমানে মিড়িয়ার বদৌলতে মানুষের পোশাক - আশাক, রুচি, সভ্যতা, সংস্কৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে মানুষ নিজেকে সেজে গুজে উপস্থাপন করতে পছন্দ করে। তাই নিজেকে উপস্থাপনের জন্য কেনাকাটা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সহজে কেনাকাটা করতে আমাদের কেনাকাটা করার বিচিত্র সব মাধ্যম সম্পর্কে জানতে হবে।

ই-কমার্স - বর্তমানে কেনাকাটা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। উন্নত দেশে এই পদ্ধতি অধিক কার্যকর। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির সুবাদে আমাদের দেশেও এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতির সুবিধা হলো কেনাকাটা করতে নগদ অর্থ বহন করার অসুবিধা নেই, সময় ও শ্রম দিতে হয় না। যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে নিজের ইচ্ছা মতো জিনিস বাছাই করে পছন্দ মতো কেনাকাটা করা যায়।

আবার সমস্যা হলে পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। ই-কমার্সের কারণে বর্তমানে ব্যবসায়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ছে। তাছাড়া ভোক্তারা নিজের পছন্দ মতো পণ্য ভোগ করার সুযোগ পেয়ে উপকৃত হয়। শুধুমাত্র আমাদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ইত্যাদি থেকে কেনাকাটা করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে সার্চ করে নিজের ইচ্ছা মতো পণ্য দেখতে ও কিনতে পারছি।

সুপার শপ - কেনাকাটার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর একটি উপায়। কারন সুপার শপে সশরীরে গিয়ে দেখে শুনে নিজের পছন্দ মতো পণ্য কেনা যায়। তাছাড়া সুপার শপে কম দামে নিজেদের পছন্দমত পণ্য কেনা যায়। বড় বড় উৎসব, অনুষ্ঠানে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সুপার শপের কোন বিকল্প নেই। কারন এক দোকান থেকে অনেক টাকার কেনাকাটা করা যায়। এতে সময় ও শ্রম বাঁচে।

শপিং মল - শপিং মল কেনাকাটার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারন আমাদের দেশে এখনও বেশির ভাগ মানুষ শপিং মলে ঘুরে ঘুরে নিজেদের পছন্দসই জিনিস কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলিকে আনন্দময় করে তুলতে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যায়, বাইরে খাওয়া দাওয়া করে এবং শপিং করে।

আর শপিং মলগুলো শহরের বা উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত যার কারণে যাতায়াতে সমস্যা হয় না। শপিং মলে জিনিসের দাম একটু বেশি হলেও আমরা খুব সহজে যেকোনো সময় গিয়ে কেনাকাটা করতে পারি। কারন সুপার শপ বড় বড় শহর ছাড়া সব জায়গায় পাওয়া যায় না।

হোম ডেলিভারি - বর্তমানে সব ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে হোম ডেলিভারি সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষ কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত থাকে যে, সময় নিয়ে কেনাকাটা করার সুযোগ থাকে না। হোম ডেলিভারি হলে সেক্ষেত্রে কোন কথা থাকে না।

বর্তমানে মুদির দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হচ্ছে প্রতারণা ও বিশ্বাসের অভাব। তাই সততার সাথে ব্যবসা করলে খুব সহজে এসব ব্যবসায়ে উন্নতি করা যাবে।

হাট-বাজার - কেনাকাটার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কারন প্রত্যেকে এলাকায় স্থানীয় হাট থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় এবং ছোট খাট জিনিসগুলো কিনে থাকে। এসব জিনিস এখানে সস্তা ও ভাল পাওয়া যায়। তাছাড়া এসব জায়গা থেকে জিনিস আনা নেওয়ার ঝামেলা কম।

রাস্তার পাশের ছোট দোকান - এসব দোকান থেকে আমরা বাচ্চাদের খেলনা, ঘরের ছোট খাট জিনিস, বাচ্চাদের জিনিস কিনে থাকি। কারন শপিং মলে এসব জিনিসের দাম বেশি। একই জিনিস আমরা এখান থেকে কম দামে পেয়ে থাকি।

ছোট ছোট ভ্যান - বর্তমানে ছোট ছোট ভ্যানে করে অনেক জিনিস বিক্রি করা হয়। এসব ভ্যান আমাদের বাসার কাছে এসে জিনিস বিক্রি করে। ফলে ক্রেতারা তাদের বাসার দোরগোড়া থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে উপকৃত হয়। কারন এখান থেকে কম দামে জিনিস কেনা যায়।অন্য জায়গায় এসব জিনিসের দাম অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।

ফেরিওয়ালা - ফেরিওয়ালারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে থাকে। কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে জুতা, বেডসিট, নকশি কাঁথা, ক্রোকারিজ সামগ্রী, ঘরের ছোট খাট জিনিস আমরা দেখে শুনে বাড়ি থেকে নিতে পারি। এসব জিনিস কম দামে নেওয়া যায় , পরিবহন খরচ লাগে না, সময় ও শ্রম বাঁচে।

মোট কথা, প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে মানুষের পোশাক আশাক, রুচি, সভ্যতা, সংস্কৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এসব পরিবর্তনের সুবাদে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষণীয়। এসব পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কেনাকাটার অনেক মাধ্যম রয়েছে। তাই জেনে বুঝে কম দামে ভাল জিনিসটি কিনুন এবং অন্যকে কিনতে সহায়তা করুন।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

মন্তব্য(০)
উত্তর(০)

মন্তব্য ও উত্তর লিখতে অনুগ্রহ করে লগইন করুন!!


আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com