LearnArticle
ENGLISH শর্ত ও নিরাপত্তা লেখক লগইন লেখক হোন

ক্ষণস্থায়ী জীবনের শেষ কোথায় ? মানব জীবন

রিমি আক্তার
প্রকাশকাল (১০ ডিসেম্বর ২০১৬)

মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী এই কথা কে না জানে। কিন্তু জীবনের শেষ কিংবা জীবনের ভবিষ্যৎ কি, এইখানে আমরা ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এই ক্ষণস্থায়ী জিবনের শেষ কিংবা গন্তব্য সম্পর্কে জানা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা লক্ষ্য না জানলে বা লক্ষ্য ভুল করলে সফল হওয়া সম্ভব না। আমরা যদি জীবনের শুরু থেকেই জীবনের গন্তব্য, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য জেনে কাজ করি তাহলেই ভবিষ্যৎ ভাল হবে।

ক্ষণস্থায়ী জীবনের শেষ কোথায় ? মানব জীবন

ছবি রিমি আক্তার

শিশু কাল: শিশুকাল মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। জীবনের সূচনা হয় শিশুঅবস্থা থেকে। এই পর্যায়ে মানুষ অসহায় অবস্থায় থাকে। আমরা দেখে থাকব যখন গরুর বাছুর জন্ম নেয়, তখন সাথে সাথে উঠে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। বাছুরের কোন যত্নের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু একটা মানব শিশু জন্মের পর কান্না করা ছাড়া আর কিছুই পারেনা। তাকে মায়ের দুধ পান করাতে হয়। এমনকি দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিছানায় মল মুত্র ত্যাগ করে এবং সেটা পরিস্কার করার জন্যও অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এভাবে একটা সময় নিজে নিজে হাটতে শিখে। এই সময়টাতেই বাচ্চারা পরিবারের সদস্যদের বেশি কাছাকাছি থাকে। এই সময়ে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ তৈরি হয় যা সারাজীবন তার কাজকর্মে লক্ষ্য করা যায়।

কৈশোর: শিশু অবস্থা পেরিয়েই মানুষ কৈশোরে পদার্পণ করে। কৈশোর কাল মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৈশোর কালকে বলা হয় বয়ঃসন্ধিকাল। এই সময়ে বাচ্চারা মানুষের ভালোবাসা চায়। কৈশোরে বাচ্চারা অন্যের বন্ধুত্ব চায়। অনেক সময় অপরিনত প্রেমের সম্পর্কেও জড়িয়ে যায়। তার কারন হল যখন পরিবার এবং সমাজ থেকে যথেষ্ট ভালবাসা পায় না তখন সে অন্যের তথা প্রেমের মত জটিল সম্পর্কে জোড়িয়ে যায়। এই সময় বাচ্চারা একা থাকলে মনমরা হয়ে থাকে। জন্ম থেকে কৈশোর পর্যন্ত সময়টা মানব শিশু একটা আবরনের ভেতর থাকে। কৈশোর বয়সী বাচ্চাদের সাথে সবারই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন করা দরকার। পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশের জন্য এই সময় মানব শিশুর অন্যের সান্নিধ্য প্রয়োজন হয় যা সমাজ থেকে পেয়ে থাকে। এভাবে হঠাৎ করে কোন এক সময় নিজের অজান্তেই যৌবনে অপনিত হয়।

যৌবন কাল: যৌবন হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে উপভোগ্য এবং নিজেকে প্রমান করার সময়। যৌবনে মানুষ তার স্বকীয়তা পায়। জন্মের পর থেকে কৈশোর পর্যন্ত একটা আবরণের ভেতর ছিল যা যৌবনে এসে কেটে যায়। যৌবনে মানুষ কোন ব্যাপারে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যৌবনে নিজের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাধান সংগ্রহ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। যৌবনের এই বড় সময় পাড়ি দিতে গিয়ে মানুষ নানা সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এক সময় বিয়ে করে, সন্তান সন্তুতি লালনপালন এবং তাদের জন্য উপার্জন, এভাবেই কেটে যায়। আবার কেউ সৎ কিংবা কেউ অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করে। কেউ জীবনটাকে উপভোগ করে আবার কেউবা দুঃখ দারিদ্র্য এই সব নিয়েই জীবন পার করে। কারোর জীবনই কিন্তু থেমে থাকেনা। নিজের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ নিয়েই নিজের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। সেই গন্তব্যটা কি, আমরা একটু পরে আবিষ্কার করব। আমরা অনেকেই বলে থাকি যে, ভাল করে পরাশুনা কর ভাল একটা চাকরি পাবে, ভাল করে চাকরি কর কিংবা অর্থ উপার্জন কর জীবন সুখের হবে, ভবিষ্যৎ সুখের হবে। আমরা দেখব আমাদের ভবিষ্যতটা কি।

কর্মজীবন: কর্মজীবন যৌবন এবং বৃদ্ধ এই দুইটা অংশ নিয়েই বিদ্ধমান। জীবনধারণের জন্য কাজ করতে হয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। কর্মজীবন উত্তম হলে জীবনে সফলতা আসে এটাই স্বাভাবিক। এই সফলতার জন্য মানুষ কত রকম পন্থাইনা অবলম্বন করে। ন্যায় অন্যায় কিছু বিচার করার প্রয়োজন মনে করে না। অন্যের ক্ষতি করে হলেও ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে চায়। কত ব্যস্থতার মধ্যেই না থাকি। কাজ করতে করতে একসময় কপালের চামড়ায় ভাঁজ পরে নিজের অজান্তেই। তার উপর বাংলাদেশের মত দেশে কাজ পেতে পেতেই কপালে ভাঁজ ধরার উপক্রম হয়। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটে যায় পরাশুনা আর চাকরি খুজতে খুজতে।

বৃদ্ধ বয়স: বৃদ্ধ মানে বৃদ্ধ, যেন মানুষই না। আমি একজনকে বলতে শুনেছি যে ঘরে বৃদ্ধ না থেকে আমার দুই লক্ষ্য টাকা ঋণ থাকলেও ভাল হত। প্রত্যেকটা মানুষকেই এই কঠিন বাস্তবতার সম্মুক্ষিন হতে হবে এটা হয়তো সবার জানা নেই। যেই লোকটা সারাজীবন নিজের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য এত কিছু করল তার আজ এই অবস্থা। তখন হয়ত মনে হয় সারা জীবন ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য যেই সাধনা করেছি তার মানে কি। তাছাড়া মৃত্যুর ধারপ্রান্তে এসে মানুষ বুঝতে পারে জীবনের মানে কি কিন্তু কিছুই করার থাকে না। আবার এখনতো বৃদ্ধাশ্রম আছেই। এই যদি হয় ভবিষ্যৎ। এখানেই শেষ নয় মৃত্যুর পরতো আছেই। জীবনের প্রতিটা কাজের হিসেব দিতে হবে। যেখানে নির্ধারণ করা হবে সফলতা আর ব্যর্থতার চুরান্ত ফলাফল। কিন্তু আমরা যেটাকে ভবিষ্যৎ ভেবে এসেছি সেই ভুল ভেঙ্গে যাবে অচিরেই। সেজন্য আমাদের গন্তব্য বোঝে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ তথা সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করা দরকার তবেই বলতে পারব ভবিষ্যৎ ভাল হবে।

রিমি আক্তার-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

মন্তব্য(০)
উত্তর(০)

মন্তব্য ও উত্তর লিখতে অনুগ্রহ করে লগইন করুন!!


আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com