LearnArticle
ENGLISH শর্ত ও নিরাপত্তা লেখক লগইন লেখক হোন

সময়ের সদ্ব্যবহার করে নিজেকে গঠন করার এখনই সময়

সোহাগ আহমেদ
প্রকাশকাল (০১ ডিসেম্বর ২০১৬)

জীবন খুবই ছোট এ কথা সবারই জানা আছে নিশ্চয়। কিন্তু আমরা সময়ের প্রতি খুবই উদাসিন। নানা অপ্রয়োজন সময় নষ্ট করি যার খেসারত দিতে হয় সারা জীবন। সেজন্য এখনই সময় নিজেকে তৈরি করার। আর না, আমার দ্বারা হবে না, জীবনে কিচ্ছু হবে না এসব কথা না বলে কাজে লেগে যাবার এখনই সময়। একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং অধ্যবসায়ের সাথে কাজ করার মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন কোন কাজ নয়। পৃথিবীর বড় বড় মানুষ যারা ছিলেন তাদের কেউ কিছু করে দেয় নি বরং নিজেকেই প্রমান করতে হয়েছে যে আমি পারি। সেজন্য আমাদেরও সময় এসেছে প্রমান করার আমরাও পারি।

সময়ের সদ্ব্যবহার করে নিজেকে গঠন করার এখনই সময়

ছবি সোহাগ আহমেদ

অনেক হয়েছে

আমরা শুয়ে বসে, বন্ধুদের সাথে গল্প করে, এখানে এখানে বেড়াতে গিয়ে, টিভিতে সিরিয়াল দেখে, কথায় কথায় মিথ্যা বলে, অন্যকে কষ্ট দিয়ে, অন্যের সাথে প্রতারণা করে আমাদের জীবনে অনেক সময় নষ্ট করি।

কিন্তু আমরা একটুও চিন্তা করি না এগুলো করতে করতে আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। আমাদের সবার মনে মনে একটা লক্ষ্য থাকে। আমি জীবনে এটা করব ওটা করব। কিন্তু সময় যত বাড়তে থাকে বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে তা আস্তে আস্তে চাপা পড়ে যায়।

সমাজের দশটা মানুষের কাছ থেকে না পারার কথা শুনতে শুনতে আমাদের আত্নবিশাস কমে যায়। আমরা নিজেরাই ধরে নিই আমিও পারব না শুধু শুধু সময় নষ্ট করছি। কিন্তু আমরা যদি এসবের উর্ধেব থেকে একটু সাহস করে নিজে নিজেকে বলতে পারি আমি পারব।

আমাকে পারতেই হবে। আর  পারার জন্য যা কিছু করা দরকার তা যদি কালকে থেকে করব বলে রেখে না দিয়ে যখন থেকে করব বলে ঠিক করব তখন থেকে শুরু করে দিতে হবে তাহলে সময়ের সদ্ব্যবহার এবং জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে।

সময়কে কাজে লাগান

আমরা অবহেলায় অনেক সময় নষ্ট করি যা কাম্য নয়। এটা এক ধরনের অপচয়। এর জন্য আমাদের সারা জীবন কিংবা মৃত্যুর পর মাশুল দিতে হবে। সেজন্য আমাদের সময়ের যথাযথ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা যারা ছাত্র আছি প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনার পাশাপাশি অবসর সময়টা শুধুমাত্র বন্ধদের সাথে আড্ডা না দিয়ে ব্যবহারিক কিছু শিখা উচিত। অধিকাংশ সময় দেখা যায় আমরা খেলার প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে যায় যে অন্য কোন কিছুর কথা মনে থাকে না।

কিন্তু মুহূর্তের অবসানে সবকিছু আগের মতই হয়ে যায়। এই সব আনন্দ সারা জীবন থাকে না। পড়াশুনা শেষ করেই চাকরির পেছনে ছুটতে হয় জীবিকার তাগিদে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে দেখা যায় শুধুমাত্র বইয়ের জ্ঞান ছাড়া আর কোন অভিজ্ঞতাই আমাদের নেই।

তখন পারিবারিক চাপ নিজের উপর পরতে শুরু করে ফলে জীবনে নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা তৈরি হয় যা জীবনকে দর্বিসহ করে তুলে। এই সবকিছুর মুলে রয়েছে সময়ের সঠিক ব্যবহার না করা।

এটা শুধুমাত্র ছাত্রদের ক্ষেত্রে, এমনি প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই একই রকম। তাই আমরা সময়ের সঠিক ব্যবহার করে ভাল কিছু অর্জন করি যা দিয়ে নিজের পায়ে দড়াতে পারি।

সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মনোযোগী হোন

কোন সদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। কেননা সিদ্ধান্তই কোন কাজের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। সময় মত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে সফলতা অর্জন করা যায় না। কারন সুযোগ বারবার আসে না।

তাছাড়া একটি সঠিক পরিকল্পনা লক্ষ বাস্তবায়নের পথে কম পক্ষে ৬০% এগিয়ে দেয়। এই পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত যদি হয় নিজের জীবনের ক্ষেত্রে তাহলে সেটা আরও মনোযোগ দিয়ে করা উচিত। মানুষের ব্যবহারিক গঠন তিন ধরনের যেমন একদল লোক আছে যারা শুধুমাত্র নিজের আনন্দের দিকেই মনোযোগ দেয়।

আরেক দল আছে যারা যুক্তি এবং বাস্তবতার নিরিখে কোন সিদ্ধান্ত নেয়। আরেক ধরনের লোক আছে যারা নিজের নৈতিকতার জায়গাটাকে সবার উপরে রাখে, তারা বাস্তবতার নিরিখে না চলে নিজের নৈতিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয় ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এবার আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কোন ধরনের মানুষের মত সিদ্ধান্ত নেব।

আপ্রাণ চেষ্টা করুন

শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে থাকলেই চলবে? সফলতার জন্য অবশ্যই আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে তবেই না সফলতা আপনার কাছে ধরা দিবে।

এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখা উচিত কোন কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দেরি করা উচিত নয়, তাহলে কাজের আগ্রহ কমে যায়। সেজন্য দেরি না করে কাজ শুরু করে দেয়া উচিত। সফলতার রাস্তাটা খুব সোজা নয়। বিশেষ করে প্রথমটা খুবই ঝামেলার। কাজ করতে গেলে অনেক সময় ব্যর্থতা আসবেই, তাই বলে থেমে থাকা কিংবা মনোবল হারানো যাবে না।

সফলতা আসবেই

মনের সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছেড়ে কাজে লেগে যান সফলতা আসবেই। কেননা আমরা অনেকেই ভাগ্যের দোহাই দিয়ে থাকি যে এটা আমার ভাগ্যে নেই। একথা ঠিক নয়। কারন সৃষ্টিকর্তা যার যার কাজ এবং চেষ্টা অনুযায়ি ফল নির্ধারণ করে থাকেন।

ভাগ্য নির্ধারণ যদি শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার উপরই নির্ভর করত তাহলে আমাদের কেন জবাবদিহি করতে হবে। কারন মানুষই একমাত্র প্রাণী যাদের চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা এবং কাজের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে আর সেই জন্যই আমাদের কাজের উপর ভাগ্য নির্ধারণ করছে।

সোহাগ আহমেদ-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

মন্তব্য(০)
উত্তর(০)

মন্তব্য ও উত্তর লিখতে অনুগ্রহ করে লগইন করুন!!


আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com